বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:০৯ অপরাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ:

কুমিল্লা জেলার প্রতিটি থানায় সংবাদদাতা নিয়োগ দিচ্ছে জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘কুমিল্লার কথা’। আপনি যদি সাংবাদিকতায় আগ্রহী হন, সত্য ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে চান, তাহলে এ সুযোগ আপনার জন্য। বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন 'কুমিল্লার কথা' অফিসে বা নিন্মে দেয়া মোবাইল নাম্বারে।

একজন জামাল হোসেন, আর দায়হীন কলমের কাঠগড়া

মো. ইব্রাহীম খলিল মোল্লা
Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:০৯ অপরাহ্ন

একটি সংবাদ যখন সত্য অনুসন্ধানের বদলে কুৎসা রটনার হাতিয়ার হয়ে ওঠে, তখন সেটি আর সংবাদ থাকে না, তা হয়ে দাঁড়ায় সামাজিক অপরাধ। সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার মানিকারচর গ্রামের জামাল হোসেন মোল্লার পরিবারকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এমনই একটি দৃষ্টান্ত দেখা গেছে, যেখানে যাচাই-বাছাই ছাড়াই একজন মানুষকে পরিকল্পিতভাবে ‘অপরাধী’ বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। এরমধ্যে প্রতারণা, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ, অর্থ আত্মসাৎ, এমনকি ব্যক্তিগত চরিত্রহননের পর্যায় পর্যন্ত। কিন্তু প্রশ্ন হলো প্রমাণ কোথায়? মামলা কোথায়? আদালতের রায়ই বা কোথায়? একটিও নেই। সংবাদে যাঁর নাম এসেছে, তাঁর বক্তব্য নেওয়া হয়নি। স্থানীয় প্রশাসনের কোনো লিখিত বক্তব্য নেই। থানায় দায়ের হওয়া কোনো মামলার নম্বর নেই। এমনকি অভিযোগকারীর পূর্ণ পরিচয়ও নেই। অথচ এসব অনুপস্থিত রেখেই একজন মানুষকে সমাজের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটিকে সাংবাদিকতা বলা যায় না, এটি পেশাগত দায়িত্বহীনতা।

আরও উদ্বেগজনক হলো, একটি স্থানীয় ঘটনার সঙ্গে হঠাৎ করে আন্তর্জাতিক রাজনীতি টেনে এনে লেখা ভারী করার চেষ্টা। বারাক ওবামা, আমেরিকার স্টক মার্কেট ও সুপ্রিম কোর্টসহ এসব প্রসঙ্গ এনে মূল বিষয়ের সঙ্গে জোড়া লাগানোর এই কৌশল পাঠককে বিভ্রান্ত করা ছাড়া আর কিছু নয়। ভোরের কাগজের পাঠক জানেন এটি বিশ্লেষণ নয়, এটি কৌশলী ধোঁয়াশা।

সবচেয়ে ন্যাক্কারজনক দিক হলো-মুক্তিযুদ্ধের মতো পবিত্র বিষয়কে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটানোর চেষ্টা। মুক্তিযোদ্ধা তালিকা একটি রাষ্ট্রীয় বিষয়; এর সত্যতা নির্ধারণ করে সরকার, সংবাদদাতা নয়। যদি কেউ ভুয়া সনদের অভিযোগে অভিযুক্ত হন, তবে সেটি তদন্তের দায়িত্ব প্রশাসনের। সংবাদপত্রের দায়িত্ব হলো তথ্য তুলে ধরা, রায় দেওয়া নয়।

কুমিল্লার কথার নীতিতে স্পষ্ট “সংবাদ হবে তথ্যনির্ভর, ভারসাম্যপূর্ণ এবং সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য অন্তর্ভুক্ত করে। কিন্তু উক্ত প্রতিবেদনে এই নীতির ছিটেফোঁটাও মানা হয়নি।” এই ধরনের ভিত্তিহীন সংবাদ কেবল একজন মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না; এটি সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। আজ জামালের মতো একজন নির্দোষ মানুষ কলমের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হলে, কাল সেই কলমের ওপরই মানুষের আস্থা ভেঙে পড়বে।

সাংবাদিকতা প্রতিশোধের হাতিয়ার নয়, এটি ন্যায় ও সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর শপথ। যাঁর নামে এই সংবাদটি করা হয়েছে, তিনি আজ অন্তত একটি বিষয়ে নিশ্চিত থাকতে পারেন, সত্যের পাশে থাকলে মিথ্যা টেকে না। আজ হয়তো কলমের জোরে তাঁকে আঘাত করা হয়েছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই সংবাদটিই প্রশ্নবিদ্ধ হবে, লজ্জিত হবে, আর তিনি থাকবেন নৈতিকভাবে মাথা উঁচু করে। এটাই সত্য, এটাই সাংবাদিকতার জয়।

অন্যদিকে ভুক্তভোগী হাজী মো. জামাল হোসেন মোল্লার ভাষায়, তাঁর বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তার পেছনে কোনো অপরাধ নয়, আছে দীর্ঘদিনের জায়গাজমি সংক্রান্ত বিরোধ। তিনি বলেন, মো. হারুন অর রশীদের সঙ্গে এই বিরোধ থেকেই একের পর এক ঝগড়া, হুমকি ও ভয়ভীতি শুরু হয়। একপর্যায়ে হারুন ও তাঁর ভাই প্রকাশ্যেই তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানোর কথা বলে। সেই দিন থেকেই তিনি ও তাঁর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। কখন, কোথায়, কী ঘটে যায়, তা এই আতঙ্ক তাঁদের নিত্যসঙ্গী।

জামাল হোসেন মোল্লার প্রশ্ন, ব্যক্তিগত শত্রুতা মেটাতে যদি সংবাদকে অস্ত্র বানানো হয়, তবে একজন সাধারণ মানুষ কোথায় দাঁড়াবে? তিনি বলেন, সত্য চাপা দিতে পারে, মুছে ফেলতে পারে না। আজ তাঁর সম্মান ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই অপপ্রচারই প্রকাশ করবে কারা সত্যের পক্ষে, আর কারা কলমকে ব্যবহার করছে প্রতিহিংসার হাতিয়ার হিসেবে।

এ বিষয়ে অপর পক্ষ মো. হারুন অর রশীদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, একাধিকবার যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া সত্ত্বেও তাঁর সঙ্গে কোনোভাবেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, যা অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পথে আরও প্রশ্ন ও ধোঁয়াশা তৈরি করে।