বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৫১ অপরাহ্ন
নীরব প্রশাসন নয়, মাঠে থাকা নেতৃত্বই বদলায় একটি উপজেলা। কুমিল্লার মেঘনায় সেটির বাস্তব উদাহরণ দেখা যাচ্ছে সাম্প্রতিক সময়ে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী আক্তার যোগদানের পর থেকে পুরো উপজেলা জুড়ে যেসব উন্নয়নমূলক ও প্রশাসনিক কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, সেগুলোর অগ্রগতি কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে তিনি নিজেই সশরীরে পরিদর্শন করছেন। দাপ্তরিক চেয়ারে বসে নির্দেশনা দেওয়া নয়, বরং কাজের জায়গায় গিয়ে বাস্তব চিত্র দেখে আসা এই প্রবণতাই মেঘনায় প্রশাসনের গতানুগতিক চিত্রকে বদলে দিচ্ছে।
প্রায় প্রতিটি পরিদর্শনে তাঁর সঙ্গে থাকেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ফখর উদ্দিন রাজী। ফলে প্রকল্পের নকশা, মান, সময়সীমা ও বাস্তব অগ্রগতিসহ সবকিছুই সরাসরি যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। শুধু তাই নয়, যে এলাকায় পরিদর্শন করা হয়, সে এলাকার সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকেও সঙ্গে রাখা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহি নিশ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে উন্নয়ন কাজে সমন্বয় ও স্বচ্ছতাও বাড়ছে।

মাঠপর্যায়ের এই তৎপরতা উন্নয়নকাজে গাফিলতি ও অনিয়মের সুযোগ কমিয়ে নিয়ে আসছে এমনটাই বলছেন স্থানীয়রা। রাস্তা, সরকারি স্থাপনা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি কিংবা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং যে কোনো কাজই হোক না কেন, সরেজমিনে উপস্থিত থেকে পর্যবেক্ষণের ফলে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকছে না। প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও ধীরে ধীরে দৃঢ় হচ্ছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পরিদর্শন শেষে ইউএনও মৌসুমী আক্তারের বক্তব্যে থাকে স্পষ্ট ইতিবাচকতা ও দায়িত্ববোধের বার্তা। তিনি বারবারই সরকারি প্রতিটি কাজ জনগণের জন্য জোর দেন, আর সেই কাজে কোনো ধরনের অবহেলা বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর এই দৃষ্টিভঙ্গি শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নয়, জনপ্রতিনিধিদের জন্যও একটি স্পষ্ট বার্তা। মাঠে থাকা, কাজ দেখা এবং ইতিবাচক নেতৃত্ব দেওয়ার এই ধারাবাহিকতা যদি বজায় থাকে, তবে মেঘনা উপজেলা প্রশাসনের জন্য তা নিঃসন্দেহে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।