সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:০১ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ:

কুমিল্লা জেলার প্রতিটি থানায় সংবাদদাতা নিয়োগ দিচ্ছে জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘কুমিল্লার কথা’। আপনি যদি সাংবাদিকতায় আগ্রহী হন, সত্য ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে চান, তাহলে এ সুযোগ আপনার জন্য। বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন 'কুমিল্লার কথা' অফিসে বা নিন্মে দেয়া মোবাইল নাম্বারে।

মেঘনায় সাড়ে ৯ কিলোমিটারের সড়ক বেহাল, জনভোগান্তি চরমে

মেঘনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
Update Time : সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:০১ পূর্বাহ্ন

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা থেকে ভাটেরচর নতুন রাস্তা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৯ কিলোমিটার সিংহভাগ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার। এখন চলছে উন্নয়নকাজ, কিন্তু ধীরগতির কারণে মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়ে গেছে। খানাখন্দ, ভাঙা রাস্তায় জমে থাকা বৃষ্টির পানি আর কাদার কারণে সড়কটি আজ যেন চলাচলের পথ নয়, ছোট ছোট পুকুরের সারি। প্রতিদিন শ্রমিক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও রোগী পরিবহনের অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন স্কুল–কলেজগামী শিক্ষার্থী ও জরুরি সেবা নির্ভর মানুষ।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অতিরিক্ত লোডবাহী যানবাহনের চাপেই সড়কের এই করুণ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “দাউদকান্দির টোল এড়াতে হোমনা ও বাঞ্ছারামপুরের বেশির ভাগ লোড গাড়ি ভাটেরচর দিয়ে ঢুকে এই রাস্তা দিয়ে ছিনাই হয়ে চলাচল করে। দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থা চললেও প্রশাসনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা চোখে পড়ে না।
এদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, সড়কটির পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর। প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৪ কোটি ৫৮ লাখ ৬৬ হাজার ৩০৫ টাকা। লুটেরচর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার অংশে চলমান এ কাজটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে মাস্টার এন্টারপ্রাইজ ও চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ। এ পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি হয়েছে প্রায় ৫৫ শতাংশ। প্রকল্পটি হস্তান্তরের সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে ১১ মার্চ ২০২৬। তবে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলো আবার উপ–ঠিকাদার হিসেবে আব্দুল হান্নানসহ কয়েকজনের কাছে হস্তান্তর করেন।
এ বিষয়ে আব্দুল হান্নান মুঠোফোনে আমাদের এই প্রতিবেদককে বলেন, “কয়েকটি ব্রিজের এপ্রোচের কাজ আমাদের দেওয়া নেই, তারপরও করেছি। এর মধ্যে ৮০ মিটার একটি ব্রিজের এপ্রোচের কাজ চারবার করেছি, কিন্তু টিকছে না। সাব-স্টেশন ইঞ্জিনিয়ার নেই, ঠিকভাবে টাকাও পাচ্ছি না। আপনি আসেন, একদিন সরাসরি বসে কথা বলি।”
ধীরগতির কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে মেঘনা উপজেলা প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম কুমিল্লার কথাকে বলেন, “আমাদের অফিস ও কনসালটেন্টের উপস্থিতিতে কাজ চলছে। বিভিন্ন কারণে অগ্রগতি কিছুটা মন্থর হয়েছে। তবে দ্রুতগতিতে এগোতে পারলে আরও আড়াই মাসের মতো সময় লাগবে। তাদেরকে টাকা ঠিকই দেওয়া হচ্ছে, কাজ না করিয়ে তো টাকা দেওয়া যায় না। আর এপ্রোচের বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষ এসে বিষয়টি দেখেছেন এবং সমাধানও হয়েছে। কারণ এপ্রোচের কাজটি ঠিকাদারই করবে।”
তিনি আরও বলেন, “কাজ চলমান থাকায় সড়ক ব্যবহারকারীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন এটা আমরা জানি। সেজন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।”