রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ০২:৩০ অপরাহ্ন

শিরোনাম:
ভাওরখোলায় শুরু হচ্ছে আন্তঃ ইউনিয়ন প্রিমিয়ার লীগ, প্রস্তুত ‘নর্থ ব্রাদার্স’ ঈদ উপলক্ষে মেঘনায় নিরাপত্তা জোরদার করেছেন ইউএনও মৌসুমী আক্তার মেঘনায় শীতবস্ত্র বিতরণে সেনাবাহিনী, উপকৃত অসহায় মানুষ ইউএনওর সরেজমিন উপস্থিতিতে কমছে অনিয়ম, বাড়ছে স্বচ্ছতা একজন জামাল হোসেন, আর দায়হীন কলমের কাঠগড়া শরিফ ওসমান বিন হাদির কবর জিয়ারত করবেন তারেক রহমান দুই হাত নেই, তবু থেমে নেই আরশাদুলের জীবনসংগ্রাম ও শিক্ষার লড়াই মেঘনায় যথাযথ মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপন মেঘনায় চুরি ঠেকাতে গ্রামবাসীর প্রহরী, তবু থামছে না চুরির ঘটনা পরীক্ষা বর্জন করে দাবিদাওয়ার নামে শিশুদের জিম্মি করা কি শিক্ষকতার দায়িত্ব?
ব্রেকিং নিউজ:

কুমিল্লা জেলার প্রতিটি থানায় সংবাদদাতা নিয়োগ দিচ্ছে জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘কুমিল্লার কথা’। আপনি যদি সাংবাদিকতায় আগ্রহী হন, সত্য ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে চান, তাহলে এ সুযোগ আপনার জন্য। বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন 'কুমিল্লার কথা' অফিসে বা নিন্মে দেয়া মোবাইল নাম্বারে।

সুন্দরবন উপকূলে পরিত্যক্ত খোলস থেকে তৈরি হচ্ছে কাকড়া সার

এডভোকেট শহিদুল ইসলাম
Update Time : রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ০২:৩০ অপরাহ্ন

এডভোকেট শহিদুল ইসলাম ,শ্যামনগর।

সাতক্ষীরার সুন্দরবন উপকূলে রাতের আঁধারে মৎস্য ও কাকড়া চাষীদের কাকড়ার খোলস ফেলে দিতে হতো। যেখানে ফেলা হতো দুর্গন্ধের কারণে সেখানে কেউ টিকতে পারতো না। সেই খোলস থেকে এখন নির্মাণ হচ্ছে মূল্যবান ‘কাকড়া সার’।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের শেষ জেলা সাতক্ষীরায় আছে তিন শতাধিক কাকড়া খামার। এখানে হার্ডসেল (শক্ত খোলসের) ও সফট সেল (নরম খোলসের) কাকড়া চাষাবাদ করা হয়। এখান থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ কাকড়ার খোলস বের হয়। কিন্তু সমস্যা হলোÑএই খোলস রাখা হবে কোথায়? তখন এর পথ দেখালেন নওয়াবেকী গ্রামের চাষী আসলাম হোসেন। ফেলনাকে বানালেন মূল্যবান সম্পদ।

আসলাম ছিলেন দরিদ্র মৎস্যচাষী। তবে এর সাথে তার বাড়িতে ছিল ছাঁদ বাগান। সেই ছাদ বাগানে তিনি বরাবরই দিতেন জৈব সার। এরপর তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ওই ছাঁদ বাগানের গাছে দিতেন কাকড়ার খোলসগুড়ো করা সার। গাছগুলো হয়ে উঠলো লকলকে। এরপরই তিনি এ নিয়ে স্থানীয় এনজিও এনজিএফের সহায়তায় এগিয়ে যেতে থাকলেন। পরিত্যক্ত কাকড়ার খোলস আর বাড়িতের রান্নার তরিতরকারির বর্জ্য নিয়ে বানাতে থাকলেন কাকড়া সার।

কাকড়া সার স্থানীয় মৎস্যচাষীরা ঘেরে দিলেন, তাতেও উপকার পেতে থাকলেন। প্রথম দিকে দুই পাঁচজন করে করে ত্রিশটি ঘেরের চাষীরা ত্রিশটাকা কেজি দরে তুলনামূলক অনেক কম মূল্যে ওই কাকড়া সার দিয়ে অসামান্য উপকার পেলেন। এরপর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ পেয়ে এই সারের গুনবার্তা ছড়িয়ে পড়লো সর্বত্র।

এদিকে এই ক্রাব শেল পাউডার যা এলাকায় কাকড়া সার নামে পরিচিত সেই সারের উদ্ভাবক আসলাম হোসেন বলেন, তিনি এই সার বিক্রি করে এখন অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল হয়েছেন। মাসে ত্রিশ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা আয় করছেন এই সার বিক্রি করে।

প্রসঙ্গত, আসলাম হোসেনের দেখাদেখি আরও ৫জন উদ্যোক্তা এই ক্রাব শেল পাউডার যা এলাকায় কাকড়া সার তৈরী করছে এবং ব্যবসা করছে। সবাই এটিকে বড় কৃষি অর্থনৈতিক খাত বলেও মনে করছেন।