রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩০ অপরাহ্ন

শিরোনাম:
ব্রেকিং নিউজ:

কুমিল্লা জেলার প্রতিটি থানায় সংবাদদাতা নিয়োগ দিচ্ছে জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘কুমিল্লার কথা’। আপনি যদি সাংবাদিকতায় আগ্রহী হন, সত্য ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে চান, তাহলে এ সুযোগ আপনার জন্য। বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন 'কুমিল্লার কথা' অফিসে বা নিন্মে দেয়া মোবাইল নাম্বারে।

মেঘনায় সামা কবরস্থানে উন্নয়ন আলোচনা ও বিশেষ দোয়া

মো. ইব্রাহীম খলিল মোল্লা
Update Time : রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩০ অপরাহ্ন

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার শামসুদ্দিন সামা কবরস্থানের উন্নয়নকে সামনে রেখে কবরবাসীর জন্য বিশেষ দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (২২ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে রফিকুল ইসলাম পুলকের সভাপতিত্বে কবরস্থান প্রাঙ্গণে কমিটির উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়।

জানা যায়, ১৯৮৫ সালে চন্দনপুর গ্রামের শামসুদ্দিন সামা নামে এক ব্যক্তি ১ বিঘা জমি দান করে কবরস্থানটির সূচনা করেন। পরবর্তীতে চন্দনপুর, গোপালনগর, জয়পুর ও উজানচর নোয়াগাঁওয়ের এই চার গ্রামের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে জমি ক্রয়ের মাধ্যমে কবরস্থানটি বর্তমানে ৭ বিঘায় সম্প্রসারিত হয় এবং কবরস্থানের উন্নয়নে গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে ২০২০ সালে সভাপতি রফিকুল ইসলাম পুলক ও সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেনের আর্থিক ও সার্বিক উদ্যোগে কবরস্থানের দৃশ্যমান উন্নয়ন সাধিত হয়। ভবিষ্যতেও এই উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

মানিকারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কবরস্থানের সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেনের সার্বিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কমিটির উপদেষ্টা সোবহান মাস্টার, জয়পুর হোমস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল ইসলাম এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. মানিক মিয়া।

জয়পুর গ্রামের দুলাল মিয়ার সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিক লিস্টেড কোম্পানিজ-এর মহাসচিব মো. আমজাদ হোসেন, মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ইনচার্জ মো. কামরুজ্জামান, কুমিল্লা জজ কোর্টের আইনজীবী আবির হাসান সোহেল, প্রাণ-আরএফএল কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার মেহেদী হাসান সুজন, দাতা সদস্যের পরিবার থেকে মো. হামিদুল্লাহ, ফারুক হোসেন ও হুমায়ন কবির এবং জয়পুরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মহিবুল ইসলাম দিদার, আব্দুল মতিন ও চন্দনপুরের শাহজাহান।

সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে বক্তাদের মতামতের ভিত্তিতে সভাপতি রফিকুল ইসলাম পুলক বলেন, কবরস্থানকে আধুনিক ও সুশৃঙ্খল রূপ দিতে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগই সবার সহযোগিতায় বাস্তবায়ন করা হবে। তবে অচিরেই গাইড ওয়ালের ওপর রেলিং স্থাপন, পুরো কবরস্থানকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা এবং চারটি গ্রাম থেকে ১০ জন করে মোট ৪০ সদস্যের একটি সক্রিয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মো. জাকির হোসেন বলেন, “গত পাঁচ বছর ধরে আমি কবরস্থানের দায়িত্ব পালন করছি। ইতোমধ্যে গেইট ও গাইড ওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। গেইটের মধ্যে দাতা সদস্যদের নাম সংযুক্ত করা হবে। পাশাপাশি সবার মতামতের ভিত্তিতে একজন ক্যাশিয়ার নিয়োগ দেওয়া হবে। তাছাড়া কবরস্থানের জন্য এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি। সেটি গঠনের লক্ষ্যে এ আয়োজন করা হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “প্রতিটি কবরের দিন-তারিখ সংরক্ষণ করে রেজিস্ট্রেশন করা হবে, যাতে স্বজনরা সহজেই কবর শনাক্ত করতে পারেন। এছাড়া একটি ঘর নির্মাণ করে সেখানে একজন হুজুর রাখা হবে। ওই ঘরে কুরআন শরীফ ও হাদিসের কিতাব থাকবে এবং হুজুর নিয়মিত কবরবাসীর জন্য দোয়া করবেন।”

এ সময় উপস্থিত অন্যান্য বক্তারা কবরস্থানের উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন এবং সম্মিলিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।